বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিসিবি কমিটি ভেঙে এডহক কমিটি, ৯০ দিনে নতুন নির্বাচন

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই গুঞ্জন ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে। অবশেষে সেই গুঞ্জনের সত্যতা মিলেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি ঘোষণা করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিসিবির নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে নির্বাচনে একাধিক অনিয়মের বিষয় উঠে আসে। এসব অনিয়মের মধ্যে ছিল কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করা এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনিয়ম।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সি ক্যাটাগরিতে জাতীয় দলের ১০ জন ক্রিকেটার মনোনয়নের ক্ষেত্রে বোর্ড মিটিংয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকেও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ক্লাব ক্যাটাগরিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে কাউন্সিলরশিপ নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত কমিটির নজরে এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

“তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম পাওয়া গেছে। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন এডহক কমিটি গঠন করেছে।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে অবহিত করা হয়েছে। তবে আইসিসি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

এডহক কমিটির দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন,

“এই কমিটি আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।”

উল্লেখ্য, বিসিবির গঠনতন্ত্রে সরাসরি এডহক কমিটির বিধান না থাকলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইনের আওতায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন করে পরিবর্তনের সূচনা হলো। এখন সবার নজর এডহক কমিটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের দিকে।