বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম আয়োজন হয়েছিল ১৯৪৬ সালে কাকরাইল মসজিদে। দিন দিন লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্প, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পর ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে নিয়মিত আয়োজন হয় বিশ্ব ইজতেমার। বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাতকে কেন্দ্র প্রতি বছর ইজতেমার শেষ দিনে তাবলিগের সাথী ছাড়াও সাধারণ মুসলমানরা ভীড় জমান তুরাগ তীরে। কানায় কানায় ভরে উঠে পুরো টঙ্গী এলাকা। অনেকে আগের রাত থেকেই ময়দানের আশপাশে অবস্থান নেন।
মোনাজাতের প্রতি এতো আগ্রহের কারণ নিয়ে মিজানুর রহমান নামে টঙ্গীর একজন বাসিন্দা বলেন, মোনাজাত সবসময় করা যায়। তবে এখানে অনেক আলেম আসেন, দোয়া করেন, এজন্য আমরাও তাদের দোয়ায় শরিক হওয়ার চেষ্টা করি। তবে অনেকে ইজতেমার দোয়াকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করেন, কেউ কেউ ইজতেমাকে ছোট হজ মনে করেন। এমন ধারণা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা তানভীরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার মোনাজাত ছাড়াও সবসময় আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, নিজের প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে চাই। তবে এখানে যেহেতু অনেক মানুষের সমাগম হয়, তাই মনে করি হয়তো কারো উসিলায় আল্লাহ তায়ালা আমার দোয়া কবুল করবেন।
সালমান আহমাদ নামের আরেকজন বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমার হৃদয়গ্রাহী মোনাজাতের ভাষা আমার ভালো লাগে। এখানকার দোয়া শুনলে মনে যেন মনের আকুতি ঢেলে, দরদ নিয়ে আল্লাহ তায়ালাকে ডাকা হচ্ছে। মোনাজাতের এই দরদি কণ্ঠ আমার খুব পছন্দ।
১৯৪৬ সালে প্রথমবারের মতো কাকরাইল মসজিদে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে এবং ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তাবলিগ জামাতের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগাড় গ্রামের কাছে (টঙ্গীর মনসুর জুট মিলের নিকটে) একটি মাঠে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ইজতেমায় বিদেশি কয়েকটি জামাতও অংশ নেয়। এখান থেকেই এর নাম হয় বিশ্ব ইজতেমা। ১৯৬৭ সালে টঙ্গীর তুরাগ নদের পাড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তুরাগ পাড়ের ১৬০ একর জমি তাবলিগ জামাতের জন্য বরাদ্দ দেয়।
২০১১ সালের আগে একপর্বে তিনদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হত। স্থান সংকট এবং জনদুর্ভোগ বিবেচনা ও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি, আইন-শৃ্ঙ্খলা উন্নতি ও নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে তাবলিগের শুরা সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে তিন দিন করে ২ ধাপে ইজতেমা আয়োজনের কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
২ ধাপে ইজতেমা আয়োজনের পরও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি হওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর ৩২ জেলার অংশগ্রহণে ২ ধাপে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও যে সব জেলা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না তাদের জন্য জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। সে আলোকে গত ২ বছর ধরে জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমাও অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
করোনা মহামারির কারণে দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০২৩ সালে প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি, শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি। আর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২০ জানুয়ারি, যা ২২ জানুয়ারি শেষ হবে।
তবে তাবলিগের দুইপক্ষের চলমান বিভাজনের পর চলতি ২০২৫ সাল থেকে ইজতেমার প্রথম পর্বে দুই ধাপে অংশ নেবেন শূরায়ে নিজামপন্থীরা এবং দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ অনুসারীরা অংশ নেবেন।