বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ, দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ফিফাকে সতর্কবার্তা

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে স্টেডিয়ামে পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও তাপমাত্রা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে দর্শকদের মধ্যে তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এর আগে ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে এক লিটার পর্যন্ত খালি ও স্বচ্ছ প্লাস্টিকের পুনঃব্যবহারযোগ্য বোতল বহনের অনুমতি ছিল। তবে নতুন নির্দেশনায় বোতল, কাপ, জার ও ক্যান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিফার দাবি, দর্শকদের ছোড়া বস্তু থেকে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও অন্য দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফিফা জানিয়েছে, স্টেডিয়ামের ভেতরে পানি কেনা যাবে এবং এর দাম সংশ্লিষ্ট ভেন্যুর অন্যান্য অনুষ্ঠানের মতোই থাকবে। এছাড়া দর্শকদের জন্য মিস্টিং স্টেশন, কুলিং টেন্ট, ফ্যান ও হাইড্রেশন স্টেশনের মতো সুবিধাও রাখা হবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের অনেক ভেন্যুতেই তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সিডনির তাপ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অলিভার (অলি) জে বলেন, খেলোয়াড়দের তুলনায় দর্শকরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন। শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা গরম আবহাওয়ায় দ্রুত পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, স্টেডিয়ামে পানি বহনের সুযোগ না থাকলে এবং কুলিং ব্যবস্থাগুলো কার্যকর না হলে তাপজনিত অসুস্থতার ঘটনা বাড়তে পারে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক ড. থিওডোর কিপিং। তার মতে, নিরাপদে বিশ্বকাপ উপভোগের জন্য পর্যাপ্ত পানির সহজলভ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এদিকে সমর্থক সংগঠনগুলোও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দর্শকদের নিজস্ব পানির বোতল বহনের সুযোগ না দেওয়া অযৌক্তিক এবং এটি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি উপায় বলেও মনে করছেন অনেক সমর্থক।

বিশ্বকাপের উদ্বোধন হবে আগামী ১১ জুন। এবারের আসর যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।

 

সোর্স: বিবিসি