বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বকাপের মঞ্চে হারানো তারকাদের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা, ২০৩০ ঘিরে নতুন স্বপ্ন

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে কিছু দল একসময় ছিল নিয়মিত পরিচিত মুখ। কেউ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কেউ একাধিকবার ফাইনালিস্ট, আবার কেউ বিশ্বমঞ্চে চমক দেখিয়ে নিজেদের ইতিহাস গড়েছে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালি, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, হাঙ্গেরি, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, চিলি, পেরু, রোমানিয়া ও কোস্টারিকার মতো দলগুলোর অনুপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের হতাশ করেছে। এখন তাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ফিরে আসা।

ইতালি: চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয় আসরেও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি। নরওয়ের পেছনে বাছাইপর্ব শেষ করার পর প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় আজ্জুরিরা। ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দেখা যায়নি তাদের।

ডেনমার্ক: ১৯৯২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্কও বিশ্বকাপের টিকিটের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের কাছে হারের পর প্লে-অফ ফাইনালে চেক রিপাবলিকের কাছে টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয় দলটি। এখন নতুন পরিকল্পনায় ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ড্যানিশরা।

পোল্যান্ড: তারকা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোভস্কিকে নিয়ে গড়া পোল্যান্ড প্লে-অফ ফাইনালে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়। লেভানডোভস্কির ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় ঘনিয়ে আসায় দলটি এখন তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে নতুন করে গড়ে ওঠার পরিকল্পনা করছে।

হাঙ্গেরি: ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ রানার্স-আপ হাঙ্গেরি ১৯৮৬ সালের পর আর বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে পারেনি। দীর্ঘ চার দশকের খরা কাটাতে ২০৩০ বিশ্বকাপকেই বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছে দলটি।

নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুন: আফ্রিকার দুই পরিচিত শক্তিও এবার বিশ্বকাপে নেই। নাইজেরিয়া প্লে-অফে ডিআর কঙ্গোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ক্যামেরুনও ডিআর কঙ্গোর কাছে হেরে মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি।

চিলি ও পেরু: দক্ষিণ আমেরিকার সাবেক দুই শক্তিশালী দল চিলি ও পেরুর অবস্থাও হতাশাজনক। চিলি ১৮ ম্যাচে মাত্র দুটি জয় নিয়ে বাছাইপর্বের তলানিতে শেষ করেছে। পেরুও আক্রমণভাগের দুর্বলতায় নবম স্থানে থেকে বিশ্বকাপের দৌড় শেষ করেছে। ২০৩০ সালে ফিরতে হলে দুই দলকেই বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রয়োজন হবে।

রোমানিয়া ও কোস্টারিকা: ১৯৯৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট রোমানিয়া প্লে-অফে তুরস্কের কাছে হেরে বিদায় নেয়। আর ২০১৪ বিশ্বকাপে চমক দেখানো কোস্টারিকা কনকাকাফ অঞ্চলের শেষ ধাপে হন্ডুরাসের সঙ্গে ড্র করে বিশ্বকাপের স্বপ্ন হারায়।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের আসর। সেই ঐতিহাসিক মঞ্চে হারানো ঐতিহ্যের দলগুলো আবারও ফিরতে পারে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয়। ইতালি, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড থেকে শুরু করে নাইজেরিয়া ও চিলি—সবাই এখন নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায়।