আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে উরুগুয়ে। কোচ মার্সেলো বিয়েলসার ঘোষিত এই স্কোয়াডে তেমন কোনো বড় চমক না থাকলেও বাছাইপর্বে নিয়মিত খেলা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার নাহিতান নান্দেজের অনুপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে দল গঠন করেছেন বিয়েলসা। গোলরক্ষক হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ফার্নান্দো মুসলেরা, সার্জিও রচেট এবং সান্তিয়াগো মেলে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলা মুসলেরার অভিজ্ঞতা উরুগুয়ের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রক্ষণভাগে রয়েছে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের ফুটবলার। বার্সেলোনার ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহো, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হোসে মারিয়া জিমেনেজ, সান্তিয়াগো বুয়েনো, সেবাস্তিয়ান ক্যাসেরেস, ম্যাথিয়াস অলিভেরা, জোয়াকিন পিকেরেজ এবং মাতিয়াস ভিনিয়ার মতো খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর দায়িত্ব পালন করবেন।
মাঝমাঠে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী দেখাচ্ছে উরুগুয়েকে। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফেদেরিকো ভালভার্দে, টটেনহ্যামের রদ্রিগো বেন্টানকুর, ম্যানুয়েল উগার্তে, নিকোলাস দে লা ক্রুজ, জিওরজিয়ান ডি আরাসকায়েতা, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, রদ্রিগো জালাজার ও ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে প্রস্তুত।
আক্রমণভাগে গোলের প্রধান ভরসা হিসেবে থাকছেন লিভারপুল তারকা ডারউইন নুনেজ। তার সঙ্গে রয়েছেন রদ্রিগো আগুয়েরে ও ফেদেরিকো ভিনাস। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙার দায়িত্ব থাকবে এই ফরোয়ার্ডদের ওপর।
তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে নাহিতান নান্দেজের বাদ পড়া। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও শেষ পর্যন্ত কোচের পরিকল্পনায় জায়গা হয়নি তার। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি এবারও শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায়। মার্সেলো বিয়েলসার কৌশল, ভালভার্দে-নুনেজদের পারফরম্যান্স এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগ উরুগুয়েকে বিশ্বকাপে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।