সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বীমা কর্পোরেশন আইনের সংশোধনী নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা দিতেই কি এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের বয়সসীমা বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই আইন পাস হবে—এটাই সংসদের বাস্তবতা। তবে সদ্য পাস হওয়া দুটি আইনের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য বয়সসীমা ছিল ৬৫ বছর। অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে ছিল ৬৭ বছর। এখন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের যুক্তিতে এই সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, এটি কি কোনো দীর্ঘমেয়াদি নীতির অংশ, নাকি নির্দিষ্ট কাউকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়েছে? যদি বিশেষ কাউকে বসানোর উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে তা সরকারের ঘোষিত যোগ্যতা ও দক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে উপদেষ্টা করার জন্য প্রধান বিচারপতির বয়সসীমা বাড়িয়েছিল, যার প্রভাব দীর্ঘদিন জাতিকে বহন করতে হয়েছে। একই ধরনের সিদ্ধান্ত আবারও নেওয়া হলে তা দেশের আর্থিক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাতকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, যদি এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় লোক বসানো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেগুলো লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যোগ্যতার ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এখন জাতি অপেক্ষা করছে, সামনে কারা এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পান তা দেখার জন্য।