বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় জ্ঞান, রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অনেক সদস্যই সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেন না। কোন বিধিতে কীভাবে বক্তব্য দিতে হয়, কোন ইস্যুতে কীভাবে অবস্থান নিতে হয়—তা তারা প্রায়ই বুঝে উঠতে পারেন না। এ কারণে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও জনগণের ভোটে কখনও ক্ষমতায় না আসার হতাশা থেকেই বিরোধী দলের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছে। নির্বাচনের আগে নিজেদের ব্যর্থতা ও অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি করে কোনো লাভ হবে না। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে তাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষেও জনগণ সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ কোনো দয়া বা অনুকম্পার ফল নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রাম, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ১৯৩টি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, ৯ বার কারাবরণ করেছেন এবং গুম-রিমান্ডের অভিজ্ঞতাও সহ্য করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে যে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, তা কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসমর্থনহীন নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে গঠনমূলক রাজনীতিতে ফিরে আসুন, অন্যথায় ইতিহাসই তাদের বিচার করবে।