বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই রায়ে সারা দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের জন্য একটি কেন্দ্রীয়, সার্চযোগ্য এবং টেম্পার-প্রুফ (পরিবর্তন অযোগ্য) ডিজিটাল সিস্টেম চালু করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটকারী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো মূলত ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রতারণা, পূর্ববর্তী বিবাহ গোপন করা, রেকর্ড হারিয়ে যাওয়া বা বিকৃত হওয়া এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের মতো অনিয়ম ঘটে থাকে। এর ফলে বিশেষ করে নারীদের বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত সার্টিফাইড কপি সংগ্রহে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়, যা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আইনের সমতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস (রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ২১(ক)-এ অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এবং জাতীয় আইসিটি নীতি ২০১৮ ও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ভিশনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার নির্দেশনা থাকলেও সরকার এখনো কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি।

ডিজিটাল নিবন্ধনকে পারিবারিক নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা রক্ষার একটি অপরিহার্য উপাদান উল্লেখ করে আদালত রুল মঞ্জুর করেন এবং সরকারকে তিনটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনাগুলো হলো—
১) সারা দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের জন্য একটি কেন্দ্রীয়, সার্চযোগ্য ও টেম্পার-প্রুফ ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা।
২) সব নাগরিকের জন্য, বিশেষ করে নারীদের জন্য সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে ডিজিটাল সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
৩) আগামী তিন মাসের মধ্যে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী রায় দেশের পরিবারব্যবস্থার নিরাপত্তা, নারীর সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিয়ে ও তালাক সংক্রান্ত প্রতারণা রোধে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন চালু হলে একাধিক বিয়ে গোপন রাখা কিংবা তালাক প্রমাণসংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।

এই মামলায় রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী তানজিলা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।