দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে প্রচলিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের পরিবর্তে এলইডি লাইট ও ইনভার্টার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অঙ্গীকার, আলোকিত হোক সকল পরিবার’ প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত এ নির্দেশনায় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে নানা কার্যকর পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। লাইটিং ব্যবস্থায় সিএফএল বাতির পরিবর্তে এলইডি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা কম বিদ্যুৎ খরচে বেশি আলো প্রদান করে।
নির্দেশনায় বলা হয়, লাইটিং ফিক্সচার বা রিফ্লেক্টরে উচ্চ প্রতিফলন ক্ষমতাসম্পন্ন রং ব্যবহার করলে আলোর উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হয়। সিঁড়ি, করিডোর ও ওয়াশরুমের মতো সাধারণ স্থানে মোশন সেন্সরনির্ভর লাইট ব্যবহারের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্ধারিত আলোর মান বজায় রাখা, নিয়মিত লাইট পরিষ্কার রাখা এবং দিনের প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, ডাবল গ্লেজড বা লো-ইমিশন গ্লাস ব্যবহার এবং নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার ও সার্ভিসিং নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি, রেফ্রিজারেটর এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্লাগ লোড ব্যবস্থাপনায় ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ ‘পাওয়ার সেভিং মোডে’ রাখা, ব্যক্তিগত প্রিন্টারের পরিবর্তে নেটওয়ার্কভিত্তিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেন গ্রুপভিত্তিক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে অফিস ভবনের ছাদ বা খালি জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভবনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিডিবি জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের মূল্যবান জ্বালানি সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।