বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিদায়ের সুরে চৈত্র সংক্রান্তি আজ, নতুন বছরের অপেক্ষায় দেশ

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

আজ বাংলা বছরের শেষ দিন—চৈত্র সংক্রান্তি। ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের এই দিনটি পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার এক আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা দেশে।

ঋতুচক্রের নিয়মে আরেকটি বছরের অবসান ঘটছে আজ। চৈত্রের প্রখর রোদ, ঝরাপাতার শব্দ আর প্রকৃতির রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বিদায়ের এক বিষণ্ন আবহ তৈরি হলেও এর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে নতুন সূচনার প্রত্যাশা। তাই এই দিনটি কেবল বিদায়ের নয়, বরং নতুন করে জীবন শুরু করার প্রেরণাও জাগায়।

বাংলার ঐতিহ্যে চৈত্র সংক্রান্তির গুরুত্ব বহু পুরনো। অঞ্চলভেদে নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হলেও এর মূল বার্তা একই—পুরনো বছরের ক্লান্তি ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুনকে বরণ করা। একসময় এটি নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

গ্রামবাংলায় এ দিনটি বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরামিষ খাবার, বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের শাক দিয়ে রান্না করা ‘শাকান্ন’ কিংবা ছাতু খাওয়ার প্রথা এখনও অনেক জায়গায় প্রচলিত। এসব রীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রাচীন জীবনধারার প্রতিফলন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য দিনটি ধর্মীয় দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রত পালন, পূজা-অর্চনা, বিশেষ করে শিবপূজার মাধ্যমে তারা দিনটি পালন করেন। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

শহরাঞ্চলে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কিছু পরিবর্তন এলেও চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্য এখনও অটুট রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা, লোকসংগীত, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা ও নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে।

এবারও দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। লোকশিল্প প্রদর্শনী, অর্কেস্ট্রা, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ এবং যাত্রাপালা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য।

বিদায় ও আগমনের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে চৈত্র সংক্রান্তি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবন মানেই পরিবর্তন, আর প্রতিটি সমাপ্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক নতুন শুরুর সম্ভাবনা।