বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকেও মেলেনি সমাধান, সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে লোকজনকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন।

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত চারদিনব্যাপী এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা হলেও ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে দৃশ্যমান কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বিজিবি জানিয়েছে, তারা বিএসএফের কাছে এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম ও দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, সীমান্তে জোরপূর্বক লোক ঠেলে দেওয়ার ঘটনা বিদ্যমান চুক্তি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং পারস্পরিক সমঝোতার পরিপন্থী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে, বিএসএফের প্রকাশিত বিবৃতিতে সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পেলেও ‘পুশ-ইন’ প্রসঙ্গে কোনো উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন বা যৌথ বিবৃতি না হওয়াও বিশ্লেষকদের কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা সংকট, মাদক ও গবাদিপশু চোরাচালান দমনে সমন্বিত পদক্ষেপ এবং সীমান্তে যৌথ টহল জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কূটনৈতিক পর্যায়ে দ্রুত কার্যকর সমাধান না হলে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।