শনিবার , ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিজয়নগরে লটকনের বাম্পার ফলন, হলুদ ফলের মেলায় কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজজেলার বাগানগুলো এখন টক-মিষ্টি লটকনের সমারোহে মুখর। উপজেলার বিভিন্ন বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো লটকন। গাছের ডাল থেকে শুরু করে গোড়া পর্যন্ত শুধুই হলুদ রঙের ফল, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পাইকারদেরও আকৃষ্ট করছে।

এ বছর বিজয়নগরে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের আশা, মৌসুম শেষে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার লটকন বিক্রি হবে।

উপজেলার চম্পকনগর, মেরাসানি, সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর ও পাহাড়পুর এলাকার লাল মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোগবালাই কম থাকায় ফলের গুণগত মানও ভালো হয়েছে।

বাগান মালিকরা জানান, বাগান থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে এসব ফল ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ভৈরব, কুমিল্লা, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

বাগান মালিক মো. তফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রায় ৭–৮ বছর আগে ময়মনসিংহ থেকে লটকনের চারা এনে বাগান করেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করলেও এবার সব গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। তিনি আশা করছেন, চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার লটকন বিক্রি করতে পারবেন।

বিজয়নগর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন খান জানান, এ অঞ্চলের মাটি লটকন চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে লটকনের আবাদ আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।