বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিএনপি প্রার্থীর উসকানি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় শেরপুরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সরাসরি উসকানি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতাকে দায়ী করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। জোটের অভিযোগ, কর্তব্যরত উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সময়মতো কার্যকর ভূমিকা না রাখায় বিএনপির একদল কর্মী প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সংঘটিত সহিংস ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে ভেঙে দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে প্রার্থীদের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতা-কর্মীদের নিয়ে সময়মতো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও তার সমর্থকেরা বিলম্বে সেখানে পৌঁছান।

এ সময় আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবাদ দেখা দেয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে জামায়াত প্রার্থী তার কর্মীদের আসন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে অভিযোগ করা হয়, বিএনপির প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের উসকানিতে সেখানে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। এ সময় পুলিশ প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে দাবি করা হয়।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও তার নেতাকর্মীরা ঝিনাইগাতী বাজারে অবস্থান নেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত প্রার্থীকে নিয়ে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়া হয় এবং বাজার এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে জোট।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রশাসনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পেয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাজার এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএনপির কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম পিছিয়ে পড়েন। একা পেয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় জোটের অন্তত অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, পুরো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে। পুলিশ ও প্রশাসন আগে থেকেই সক্রিয় হলে এই হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব ছিল। তবে ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রশাসনের একপাক্ষিক ও নির্লিপ্ত আচরণের কারণে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নূরে আলম, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক আবদুল আজিজ খসরু, জাগপা নেতা এইচ এম জিয়াউল আনোয়ারসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।