বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাসভাড়া বাড়লেও যাত্রীদের অভিযোগ—আগেই বেশি ভাড়া নেওয়া হতো

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার। এর ফলে দূরপাল্লা, আন্তঃজেলা এবং মহানগর—সব ধরনের বাস ভাড়াই সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাড়া নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

রাজধানীর ঢাকা মহানগর-এ চলাচল করা অনেক রুটে দেখা গেছে, নতুন হিসাবে ভাড়া বাড়লেও বাস্তবে যাত্রীরা আগে থেকেই বেশি ভাড়া দিতেন। যেমন সদরঘাট থেকে নবীনগর রুটে দূরত্ব প্রায় ৩৭ কিলোমিটার। নতুন নির্ধারিত ভাড়া ৯৪ টাকা হলেও আগে থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ১০০ টাকা নেওয়া হতো।

একইভাবে সদরঘাট থেকে এয়ারপোর্ট হয়ে বাইপাইল রুটেও সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ৯৪ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, নতুন ভাড়া বৃদ্ধিতে তাদের তেমন কোনো লাভ হয়নি। সাভার পরিবহনের এক লাইনম্যান মনির হোসেন জানান, যানজটের কারণে সময় ও জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই নির্ধারিত ভাড়া বাস্তবে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারছে না।

অন্যদিকে স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মোহাম্মদপুর রুটে সরকারি ভাড়া ৫২ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চালকদের দাবি, দীর্ঘ যানজটের কারণে বাস্তব খরচ বেশি হয়।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, নতুন ভাড়া কার্যকর হলেও অনেক রুটেই এখনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন করা হচ্ছে না। রামপুরা থেকে মোহাম্মদপুর রুটের এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫–১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকলেও বাস্তবে ঢাকার সড়ক পরিবহনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।