কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্যবিয়ের অভিযোগে দশম শ্রেণির প্রি-টেস্ট (অর্ধবার্ষিক) পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এক শিক্ষার্থী দম্পতি। প্রধান শিক্ষক তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ায় শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
জানা গেছে, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের খোরশেদ আলম এবং একই ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের আয়েশা খাতুন ছয় মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করেন। দুজনই কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা বিয়ের পরও তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।
১ জুলাই শুরু হওয়া প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার ফি ও বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক জাহিদুল হক তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বাল্যবিয়ের অভিযোগ তুলে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেননি।
শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম বলেন, তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান এবং এসএসসি-সহ সব পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চান। একই দাবি জানিয়েছেন আয়েশা খাতুনও। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিয়ে করার কারণে তাদের শিক্ষাজীবনে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল হক বলেন, শিক্ষার্থী দুজন বাল্যবিয়েসহ নানা অনিয়ম করেছে এবং বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণ তৈরি না করতে তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তবে তারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস ছালাম বলেন, বাল্যবিয়ে অবশ্যই আইনত অপরাধ। তবে বিয়ে হয়ে গেলে কোনো শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করার বিধান নেই। বরং বিবাহিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও অগ্রাধিকার দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।