বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাধা পেরিয়েই এগোবে উন্নয়ন কার্যক্রম, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজের অঙ্গীকার ডিএনসিসি প্রশাসকের

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ঢাকা: নগর উন্নয়নের পথে নানা বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্র থাকলেও জনস্বার্থে গৃহীত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক। তিনি বলেছেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে এবং জনসেবার মানোন্নয়নে সব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর মিরপুরে আয়োজিত ‘শিশু সুরক্ষায় ও যুব কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ’ শীর্ষক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসক বলেন, উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ ৪১ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতায় তিনি বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। ভালো কাজ করতে গেলে নানা ধরনের বাধা আসে, তবে সেই বাধাকে অতিক্রম করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। নগরবাসীর কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু, কিশোর, তরুণ এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। সমাজ ও নগরের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভালো ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সচেতনতামূলক ও উন্নয়নধর্মী সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে নগর উন্নয়নে গণমাধ্যমের অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি ডিএনসিসির জনসেবামূলক কার্যক্রম ও ইতিবাচক উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে প্রচারেরও আহ্বান জানান।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, ছাদবাগান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় নাগরিক সহযোগিতাকেই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে উল্লেখ করেন।

প্রশাসক আরও বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পর সবুজায়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এর আগে তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় শিশু ও তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী দিনের উন্নত ও মানবিক নগর গঠনে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।