বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাণিজ্য মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের পাঁচ নারী উদ্যোক্তার স্টল

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৬ এ শিল্প মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের অধীনে মোট ১১টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পাঁচজন নারী উদ্যোক্তা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন। সফল নারী উদ্যোক্তা শামীম আরা দীপা ‘রাহেলা জুট ক্রাফট’ নামে একটি স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন মেলায়। এই নারী উদ্যোক্তা ২০১০ সালে শখ করে অনলাইনভিত্তিক জুট দিয়ে পণ্য তৈরির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখন অনলাইনের পাশাপাশি তার পণ্য উৎপাদনের কারখানা ও শপ রয়েছে। মতিঝিলের করিম চেম্বারের দ্বিতীয় তলায় কম্বাইন জুট উদ্যোক্তাদের নিয়ে তৈরি মেগা শপিং মলে তার একটি ছোট্ট শপ রয়েছে।

এই নারী উদ্যোক্তা  বলেন, তিনি বাণিজ্য মেলাসহ দেশের বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ করে নিজের পণ্যের প্রচারণা করে থাকেন। দেশের বাইরেও তিনি ভারত, নেপাল এবং জার্মানিতে নিজের তৈরি করা জুট পণ্যের প্রদর্শনী করার সুযোগ পেয়েছেন। তার কারখানা, শপ এবং অনলাইন ব্যবসায় এখন বেশ কয়েকজনের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারের সহায়তা পেলে তিনি তার ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান তৈরিতে আরো বেশি অবদান রাখতে চান। এবারের মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের অধীনে শামীম আরা দীপার ‘রাহেলা জুট ক্রাফট’ ছাড়াও আরো চারজন নারী উদ্যোক্তার নামে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- সেইফ ট্রেডিং কর্পোরেশন (সতেজ), দেশি, আরশি এবং ফাতিহা ড্রাই ফুড।

এ বিষয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক নাজমা খাতুন বলেন, মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের অধীনে মোট ১১ জন উদ্যোক্তা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা পাঁচজন। ঢাকা এবং ঢাকার বাহির থেকেও নারী উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের প্রদর্শন করার সুযোগ থাকছে, তারাও নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসছেন। এখানে অংশগ্রহণ করে উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্কিং তৈরি হচ্ছে, যেটিকে কাজে লাগিয়ে তারা পোডাক্টেও বৈচিত্র আনার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মেলায় আমাদের যেসব ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা যদি ব্যক্তি উদ্যোগে এখানে স্টল বরাদ্দ নিতে চাইতেন, তাহলে তাদের অনেক টাকা ব্যয় করতে হতো, যা অনেকের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। এসএমই ফাউন্ডেশনের হয়ে তারা পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে, এটি তাদের জন্য অনেক সহায়ক হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এবারের মেলার বিদেশি ১১টি সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিংগেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।