বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য জোরদারে ঢাকায় ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা সফরে এসেছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন। নতুন সরকার গঠনের পর তার এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন। তারা জানায়, ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এই সফর দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

সফরকালে ব্যারোনেস উইন্টারটন বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, বিমান চলাচল ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হবে।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশে কার্যরত যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন সুযোগ খুঁজে বের করা।

সফরের অংশ হিসেবে ব্যারোনেস উইন্টারটন রপ্তানিমুখী কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন, যারা যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিটিসিএস) সুবিধার আওতায় পণ্য রপ্তানি করছে। এই স্কিমের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পেয়ে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ডিটিসিএস-এর আওতায় বাংলাদেশ বর্তমানে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে এই সুবিধা দেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সফর প্রসঙ্গে ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকও আশা প্রকাশ করেছেন, এই সফর দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রও আরও সম্প্রসারিত হবে।