বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পালাবদলের প্রভাব এবার ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তামিম ইকবাল-এর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরুর পর তাকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা তামিমকে অভিনন্দন জানান। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তামিম ইকবালকে অভিনন্দন। একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে তার নেতৃত্ব দেশের ক্রিকেটের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে—দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দুই ক্ষেত্রেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পরই আসে এই প্রতিক্রিয়া। এর আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুল-এর নেতৃত্বাধীন কমিটি নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিলুপ্ত ঘোষণা করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ই-ভোটিংয়ে অসঙ্গতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দেশের ক্রিকেট প্রশাসন পরিচালনার জন্য তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মূল দায়িত্ব আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে আইপিএল-সংক্রান্ত ইস্যু এবং মুস্তাফিজুর রহমান-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে দূরত্ব বাড়ায়। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়েও মতবিরোধের প্রভাব পড়ে সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে আবারও ইতিবাচক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে তামিম ইকবালকে দেওয়া অভিনন্দনকে কেবল সৌজন্য নয়, বরং একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কও আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসতে পারে।
এখন সবার নজর তামিমের নেতৃত্বে—তিনি কি পারবেন দেশের ক্রিকেটকে শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে বের করে আনতে, নাকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে? সময়ই দেবে সেই উত্তর।