বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কিছু প্রবণতা আছে, অতিরঞ্জন বা অস্বীকার—দুটোই ভুল: উপদেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬


বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের একটি সীমিত প্রবণতা এখনও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি একেবারে অস্বীকার করাও বাস্তবতার পরিপন্থী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়-এ আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে সরকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করছে। তার ভাষায়, “ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু তা আতঙ্কের পর্যায়ে নয়।”

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে দুটি চরম অবস্থান দেখা যায়—একটি হলো বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা, অন্যটি পুরোপুরি অস্বীকার করা। তার মতে, এই দুই অবস্থানই বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে জঙ্গিবাদের উপস্থিতি ছিল এবং এখনও কিছু প্রবণতা রয়ে গেছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছিল, যার কিছু প্রভাব এখনও রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেল থেকে মুক্তি পাওয়া সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কার্যক্রম নজরদারিতে রয়েছে। কেউ পুনরায় অপরাধে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তাদের জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

এছাড়া ‘জঙ্গি’ শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে এভাবে আখ্যায়িত করা উচিত নয়। অতীতে এ ধরনের সাধারণীকরণ অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের লক্ষ্য জঙ্গিবাদকে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উগ্রবাদী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন প্রয়োগ, নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ অব্যাহত থাকবে।