বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে চীন ও মালয়েশিয়া: মাহদী আমিন

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একযোগে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীকে যে সম্মান ও রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছে, তা শুধু একজন সরকারপ্রধানের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও গৌরবের বিষয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে মর্যাদা পায়, এই সফরে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, সফরের প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং ফোরামের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রিমিয়ার, প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

মুখপাত্র বলেন, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীন ও মালয়েশিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাহদী আমিন জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকেও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশটির নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হলেও বাংলাদেশের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাংলাদেশকে দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্পায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।