আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে কারিগরি সহায়তা দিতে ২ মিলিয়ন ডলার (২০ লাখ মার্কিন ডলার) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। একই সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার এইচ. ই. অজিত সিং এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে কানাডিয়ান হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, বাংলাদেশ একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা নিয়ে কানাডা গর্বিত। তিনি বলেন, কানাডা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অংশীদার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে কানাডা অন্যতম।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি-কানাডিয়ান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কী ঘটে, তা শুধু এই দেশের জন্য নয়—কানাডা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে জাতিসংঘের কনসোর্টিয়ামকে সমর্থন দেওয়ার জন্য কানাডার করদাতাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, গত এক বছর ধরে ইউএনডিপি, ইউনেস্কো, জাতিসংঘ নারী ও ইউএনওডিসি—এই চারটি সংস্থা নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। কানাডার নতুন এই তহবিল সেই সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। কানাডার দেওয়া এই অনুদান মূলত নির্বাচন কমিশনের কারিগরি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা জোরদারে ব্যয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।