রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনে ফেনীর মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ জলকপাট দুই মাস ধরে খোলা

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে মুহুরী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে ফেনীর সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০টি জলকপাট গত প্রায় দুই মাস ধরে খোলা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খালের সঙ্গে সংযুক্ত ১০টি অভ্যন্তরীণ স্লুইস গেটও খোলা রয়েছে, যাতে অতিরিক্ত পানি দ্রুত বঙ্গোপসাগরে নিষ্কাশন করা যায়।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মেদ জানান, এটি কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে গেট খুলে দেওয়ার ঘটনা নয়; বরং প্রতিবছরের নিয়মিত পরিচালন কার্যক্রমের অংশ। ধান চাষের সেচ নিশ্চিত করতে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গেট বন্ধ রাখা হলেও বর্ষা শুরুর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে সেগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং বর্ষাকালজুড়ে খোলা থাকে।

তিনি আরও জানান, জোয়ারের সময় ফেনী নদীর উল্টো স্রোতের পানি যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য রেগুলেটরের ফ্ল্যাপ গেটগুলো পানির চাপের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। জোয়ার শেষ হলে চাপ কমে গেলে সেগুলো আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মুহুরী সেচ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ফেনী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বর্ষাকালে বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা। বর্তমানে অতিরিক্ত পানি দ্রুত অপসারণের জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কার্যকর রাখা হয়েছে।

শনিবার রাত ১১টায় মুহুরী নদীর পানির স্তর ছিল ১০.১৪ মিটার, যা ১২.৫৫ মিটার বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে শনিবার রাত ৯টার পর থেকে নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অবনতি হলে তা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।