বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বর্ণিল আয়োজনে বাংলা একাডেমিতে শুরু ৭ দিনের বৈশাখী মেলা ১৪৩৩

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসবমুখর আয়োজন—সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং Bangla Academy-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই বৈশাখী মেলা চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

মেলায় থাকছে দেশের ঐতিহ্যবাহী লোকজ ও কুটির শিল্পের বিস্তৃত সমাহার। মাটির পণ্য, নকশিকাঁথা, জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন জিআই পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি থাকবে কৃষিজাত দ্রব্য, হস্তশিল্প, খেলনা, সাজসজ্জার সামগ্রী এবং লোকজ খাদ্যপণ্যের স্টল।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জামদানি, নকশিকাঁথা, বস্ত্র, শতরঞ্জি ও মণিপুরি শাড়ির জন্য পৃথক স্টল। এছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য রাইড, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রান্তিক কারুশিল্পী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জন্যও আলাদা স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি স্টলে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিও পরিচালিত হবে।

বক্তারা বলেন, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে বিসিক ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে এই বৈশাখী মেলার আয়োজন করে আসছে। এটি শুধু একটি মেলা নয়, বরং বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

সব মিলিয়ে এবারের বৈশাখী মেলা যেন বাঙালির গ্রামীণ ঐতিহ্য, কারুশিল্প ও উৎসবের এক বর্ণিল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।