বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বয়কট ইস্যু সমাধানে জয় শাহকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর ২৪ ঘণ্টাও বাকি নেই। তবে এখনও মীমাংসা হয়নি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার। আইসিসি তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর্থিক লোকসানসহ সব বিবেচনায় পাকিস্তানকে রাজি করাতে এবার দেশটিতে যাওয়ার পরামর্শ পেলেন আইসিসি সভাপতি জয় শাহ।

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আইসিসি ও পিসিবির সাবেক সভাপতি ইহসান মানি এই আহবান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’কে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘তার (জয় শাহ) উচিত পাকিস্তানে গিয়ে সরকারের সঙ্গে বসে বয়কটের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে রাজি করানো এবং তাদের অসন্তোষের বিষয় শোনা।’ ইহসান মানির মতে– পাকিস্তানকে রাজি করাতে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি সঠিক মানুষ নন। আইসিসি সভাপতি–ই স্বয়ং পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কথা বলার উপযুক্ত।

পাকিস্তান ভারত-ম্যাচ বয়কটের মতো ‘সাহসী পদক্ষেপ’ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের শক্ত যুক্তি আছে বলে মনে করেন ইহসান মানি। যা নিয়ে ভবিষ্যতে বিষয়টি আইসিসির আরবিট্রেশন কমিটি পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাবেক এই আইসিসি প্রধান বলেন, ‘পাকিস্তানের ঘটনায় কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে, কারণ আইসিসি পাকিস্তানের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে পেরেছে, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কার্যকর যুক্তি দেখানোর রসদ থাকবে তাদের নিয়োজিত আইন বিভাগের হাতে।’‘যদি আইসিসি আবারও পাকিস্তানের সঙ্গে ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হয় এবং ভারতকে খুশি করতে চায়, বিষয়টি নিয়ে আমাদের সুইজারল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড কোর্ট অব আরবিট্রেশনে যাওয়ার অধিকার আছে। সেখানে পাকিস্তানের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ এখানে এমন অনেক ঘটনা আছে যা আইসিসির সিদ্ধান্তে যে রাজনীতির প্রভাব আছে– তা প্রমাণ করে দেবে’, আরও যোগ করেন ইহসান মানি।

ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় হতে পারে আইসিসির। ফলে ম্যাচটি না হলে যে বড় অঙ্কের মুনাফা হাতছাড়া হবে তা বলাই বাহুল্য। তবে ইহসান মানি সেই প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তান আইসিসির রাজস্ব থেকে মাত্র ৫.৭৫ শতাংশ এবং ভারত ৩৮.৫ শতাংশ পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আইসিসিকে রাজনীতিমুক্ত করতে পাকিস্তানের সামনে লড়াইয়ের সময় এসেছে। তারা (আইসিসি) ভদ্রলোকের খেলায় হাত না মেলানোর মতো ঘটনা সত্ত্বেও ভারতের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এসিসির সভাপতি মহসিন নাকভি কেবল পাকিস্তানি হওয়ায় তার হাত থেকে এশিয়া কাপ ট্রফি নেয়নি ভারতীয় দল, এজন্যও তারা কোনো শাস্তি পায়নি।’আইসিসি ভারতের কাছে জিম্মি, ক্রিকেটের নতুন সংস্থা দরকার : পাক মন্ত্রী
‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের মাধ্যমে সম্ভবত সদস্যদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত চুক্তি (পিসিবি ও আইসিসির মধ্যকার স্বাক্ষরিত) লঙ্ঘন হবে, কিন্তু এখানে বিসিসিআইয়ের নেতিবাচক মনোভাবেরও দায় রয়েছে। যা পাকিস্তানকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে’, আরও যোগ করেন ইহসান মানি।