রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বন্যাকবলিত কৃষকদের সহায়তায় অনিয়মে কঠোর হুঁশিয়ারি, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

 

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, বীজ, সার ও গবাদিপশুর ভ্যাকসিনসহ সরকারি সহায়তা অবশ্যই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে এবং সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের মতো অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদের পুনরায় টিকা দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, একটি গবাদিপশুর মৃত্যু একজন খামারির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ। তাই রোগ প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর ভ্যাকসিন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।