চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির সাথে অপারেটিং চুক্তিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন করে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা হিসেবে তাৎক্ষণিক বদলি আদেশ জারি করেও দমানো যাচ্ছেনা আন্দোলন। আন্দোলনের মুখে অচলাবস্থা হয়ে পড়ছেন বন্দরের অপারেটিং কার্যক্রম।
এ’ঘটনায় ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামার কাজে শনিবার থেকে বিঘ্ন ঘটছে যার ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ১৫ কর্মচারীকে তিন দফায় খুলনার মোংলা বন্দর ও পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আন্দোলনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা দুজনও রয়েছেন। আজ সোমবার (২ জানুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এই বদলি করা হয়।নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাপ্তরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এর আগে তিনটি পৃথক আদেশে এই কর্মচারীদের ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপো ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বদলি করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁরা এসব কর্মস্থলে যোগ দেননি। আজ সোমবার তাঁদের আবারও বদলি করে দুই বন্দরে সংযুক্তি প্রদান করা হলো। বদলি হওয়া কর্মচারীরা হলেন—অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (নৌ বিভাগ, ১ম শ্রেণি), উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) এবং এসএস খালাসী মো. ফরিদুর রহমান (প্রকৌশল বিভাগ)।
এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের শনিবার বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং যথাসময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য প্রকৌশলী কমোডর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েলকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার বন্দর পরিচালকের প্রশাসন শাখার এক আদেশে অনুমোদন পায়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বন্দরের চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তবে বদলি হওয়া আন্দোলনকারী নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, “বিদেশিদের হাতে এনসিটি টার্মিনাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। বদলি কিংবা তদন্ত কমিটি করে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে ভয় দেখিয়ে দমন করা যাবেনা। তিনি আরো বলেন দাবী পূরণ না হওয়া অবধি শ্রমিকদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।