বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘বড় বিজয় অর্জিত হয়েছে’: যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমান দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ইরান দাবি করেছে, এটি তাদের জন্য একটি ‘বড় বিজয়’। মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা, ইরানিয়ান সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানিদের লক্ষ্য করে অবৈধ, কাপুরুষোচিত এবং অপরাধমূলক যুদ্ধের জন্য শত্রুপক্ষ ইতোমধ্যেই তর্কাতীত, ঐতিহাসিক এবং বিধ্বংসী পরাজয় ভোগ করতে শুরু করেছে। ইরান বড় বিজয় অর্জন করেছে।”

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই দাবি করেছেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর মঙ্গলবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটা আমাদের সম্পূর্ণ এবং সর্বাত্মক বিজয়… একদম শতভাগ। এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন নেই।”

সামরিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট হলো:

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে।
  • এক সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আহ্বান জানান ট্রাম্প।
  • মার্চের মধ্যে ট্রাম্প ইরানকে ১৫ পয়েন্টের শান্তি প্রস্তাব পাঠান।
  • ইরান প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প সংশোধিত সংস্করণ পাঠান, যেখানে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির উল্লেখ ছিল।
  • মঙ্গলবার ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় এবং ট্রাম্প তা মেনে নেন।

যুদ্ধবিরতির আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছিলেন, যাতে তারা সমঝোতা চুক্তিতে না আসে, তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে

তবে এএফপির এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। চীন এই পরিস্থিতিতে সাহায্য করতে পারে। যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা এবং সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে চীন সহায়তা করবে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা স্থায়ী শান্তি ও সমঝোতার জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।