মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের গোষ্ঠী এখনও পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়নি। তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ওঁৎ পেতে আছে এবং সুযোগ পেলেই আবার সক্রিয় হয়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এসব অপশক্তির লক্ষ্য সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভুইগড় এলাকায় গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো এখনও হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। তারা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে নানা কৌশলে সক্রিয় রয়েছে। এ কারণেই সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের যেসব মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, তা কেবল একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন সম্ভব। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও জনবান্ধব সরকার গঠনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং সংস্কার, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার একটি সুযোগ।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, মসজিদের ইমাম ও খতিব, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তারা মানুষকে বোঝাচ্ছেন—আগামী নির্বাচনে দায়িত্বশীলভাবে, বুঝে-শুনে ভোট দিতে হবে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, নির্বাচন হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর। ভোট দিতে গিয়ে কেউ যেন ভয় বা আতঙ্কের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষভাবে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মা-বোনেরা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নতুন ভোটাররা যেন অবশ্যই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
এছাড়াও সমাবেশে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।