জাতীয় সংসদে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বিষয়টি উত্থাপন করে সরকারের কাছে জানতে চান, এত বড় আকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থায়ন কীভাবে করা হবে এবং তা দেশের অর্থনীতিতে কোনো চাপ সৃষ্টি করবে কি না।
তার প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনতে বছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ যদি বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের বাইরে থেকে নতুনভাবে যোগান দেওয়া হয়, তাহলে তা মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, এই কর্মসূচি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে না; বরং ধাপে ধাপে ডাটা সংগ্রহ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তা চালু করা হবে। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং ধীরে ধীরে কার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হবে, ফলে বাজেটের ওপর হঠাৎ কোনো বড় চাপ পড়বে না।
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই কর্মসূচি থেকে উল্লেখযোগ্য মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনা নেই। বরং এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতের অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বন্দ্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দেওয়া আড়াই হাজার টাকার সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হবে এবং এটি বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। বরং সমন্বিতভাবে এগুলো মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।
সরকারের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই কর্মসূচি দেশের অর্থনীতিতে চাপ না বাড়িয়ে বরং দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বাস্তবায়নের ধরণ ও অর্থের উৎসই নির্ধারণ করবে প্রকৃতপক্ষে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কতটা থাকবে।