বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ আশ্বাসে হোটেলে ফাঁদ, বিধবা নারীর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

ফরিদপুরে এক বিধবা নারীর সঙ্গে কৌশলে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বুধবার (৯ এপ্রিল) কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। অভিযোগকারী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চার দিন চিকিৎসা নিয়ে গতকাল বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালের ছাড়পত্রে ‘যৌন হয়রানি’ করা হয়েছে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী জানান, ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন। তারপর থেকে অন্যের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি বলেন, “আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। সম্প্রতি সুজন শেখ আমাকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।”

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২ এপ্রিল সকালে রিকশায় রওনা হন ওই নারী। শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাস টার্মিনালের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে নামানো হয়। এরপর হেঁটে নতুন বাস টার্মিনাল সড়কের দিকে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে পৌঁছান। সুজন তাঁকে জানান, এখানেই উপজেলা অফিস। ভুক্তভোগী হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করলে সুজন একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। চিৎকার করতে গেলে মুখ চেপে ধর্ষণ করেন। এরপর রিকশায় বাড়িতে ফিরে যান নারী। ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ঘটনাটি জানানোর পর অসুস্থবোধে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ভুক্তভোগী দাবি করেন, “আমি তো অফিস চিনি না। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় বিশ্বাস করেই সুজনের সঙ্গে গিয়েছি। কিন্তু আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে, আমি তার বিচার চাই।”

অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। ওই নারী কার্ডের জন্য মাঝেমধ্যেই আমার বাড়িতে আসত। ওইদিনও বাড়িতে আসে। তখন উত্তেজিত হয়ে একটি লাথি মেরেছিলাম। এ কারণে আমার নামে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে।”

কোতোয়ালি থানার ওসি Shahidul Islam জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।