জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র আমির ডা. শফিকুর রহমান ভোরে সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজ শেষে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মসজিদের সামনের রাস্তা নিজ হাতে ঝাড়ু দেন তিনি।
রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদ এলাকায় এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তিনি সঙ্গীদের নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেন। এর আগে তিনি বাইতুন নূর মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে তিনি বলেন, “আমরা সমাজদেহ পরিচ্ছন্ন করব ইনশাআল্লাহ। তার আগে শুরু করছি রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা দিয়ে। এরপর সমাজের মানসিক আবর্জনাও দূর হবে।” তিনি জানান, সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সমাজ সংস্কারের অঙ্গীকার থেকেই এই উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার ময়লা, ড্রেনের আবর্জনা থেকে শুরু করে মানুষের ‘মনের আবর্জনা’ দূর করার লক্ষ্যেই এই অভিযান। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্তত আধা ঘণ্টা করে এলাকার প্রতিটি ইউনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবে। তিনি বলেন, “এটা লোক দেখানো নয়, এটা দিয়ে শুরু। আমরা চাই আমাদের এলাকাটি একটি আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে উঠুক। সরকার সহযোগিতা করুক বা না করুক, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সবাই মিলে একটি সুন্দর মিরপুর-কাফরুল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন সবার সম্মিলিত দায়িত্ব সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ আমি হয়েছি, আগামীতে অন্য কেউ হবেন— এটাই গণতন্ত্র।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইয়ের আন্দোলনকে অসম্মান করার শামিল। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব পেয়েছেন এবং তিনি নিজেও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, “সরকার যদি সংস্কার উদ্যোগ নেয়, বিরোধী দল হিসেবে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর সরকার উদ্যোগ না নিলে জনগণের হয়ে আমরা সংসদে কথা বলব।”