বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলবে ‘রমজানের বাজার’

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের পরিবেশ সুরক্ষা এবং পবিত্র রমজানে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নগরের সরকারি কমার্স কলেজের সামনে স্থাপিত ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ কর্নার’-এ ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে মিলবে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও ইফতার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ‘রমজানের বাজার’।

রোববার (১ মার্চ) ক্লিন বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বর্জ্য এখন সম্পদ।উদ্বোধনী বক্তব্যে মেয়র বলেন, প্লাস্টিক দূষণ আজ আমাদের নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। ড্রেন ও নালা-নর্দমা প্লাস্টিকে ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চাই রমজানে শহর পরিচ্ছন্ন থাকুক এবং দ্রব্যমূল্যের চাপে কেউ যেন কষ্ট না পায়। নাগরিকরা বাসায় জমে থাকা প্লাস্টিক বোতল বা বর্জ্য এখানে জমা দিয়ে পয়েন্ট সংগ্রহ করবেন। সেই পয়েন্টের বিনিময়ে তারা প্রয়োজনীয় বাজার ও ইফতার সামগ্রী নিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, সংগৃহীত প্লাস্টিক সরাসরি পুনর্ব্যবহার (রিসাইকেল) প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের এক্সচেঞ্জ কর্নার স্থাপন করা হবে। উদ্যোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা রোধ ও জলাবদ্ধতা কমানো, প্লাস্টিককে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্য সহজলভ্য করা এবং প্লাস্টিকের অর্থনৈতিক মূল্য সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি।

আয়োজকরা জানান, নির্দিষ্ট বুথে প্লাস্টিক বোতল বা সামগ্রী জমা দিলে ওজন অনুযায়ী ডিজিটাল কার্ড বা কুপনে পয়েন্ট যুক্ত হবে। সেই পয়েন্ট ব্যবহার করে কর্নারে সাজানো ‘রমজানের বাজার’ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করা যাবে।

উদ্বোধন শেষে মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে প্লাস্টিকের বিনিময়ে রমজানের বাজার ও ইফতার সামগ্রী তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।