রংপুরে আলোচিত এক হত্যা মামলায় প্রেমিকা ও তার গর্ভের সন্তান হত্যার দায়ে মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের একটি আখক্ষেত থেকে এক নারী ও একটি শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হয়। তিনি ছিলেন ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার কর্মী সান্তনা বেগম (৩০), যার বাড়ি বগুড়া জেলায়।
তদন্তে উঠে আসে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় মাসুদ মিয়ার সঙ্গে সান্তনার পরিচয় হয়। শুরুতে দুলাভাই-শ্যালিকার সম্পর্ক থাকলেও পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। পরবর্তীতে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের বিষয়ে বারবার চাপ দিলেও নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যান মাসুদ।
একপর্যায়ে সান্তনা অন্তঃসত্ত্বা হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই বিয়ের দাবিতে সান্তনা পীরগঞ্জে মাসুদের বাড়িতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে খালার বাড়িতে রাখা হয়। পরদিন কৌশলে আখক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গলায় পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মাসুদ। এরপর পেটে লাথি মারলে গর্ভের মৃত কন্যা সন্তান প্রসব হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
পরবর্তীতে র্যাব গাজীপুর থেকে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জেরা শেষে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।