বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

প্রশ্নফাঁসের ক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি রাহুলের

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার জন্তর মন্তর থেকে আটক হওয়ার পর বুধবার মুক্তি পান রাহুল। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ‘সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ’ হয়েছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকার মতো সক্ষমতা শিক্ষামন্ত্রীর নেই।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরাও শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।

রাহুল গান্ধীর দাবি, গত এক যুগে ভারতে ১৫২ বার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এতে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ব্যয় করে এসব পরীক্ষায় অংশ নেন এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন বলে মন্তব্য করেন রাহুল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত এক দশকে কাউকে দায়ী করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন একটি ‘পাতানো ব্যবস্থায়’ পরিণত হয়েছে।

রাহুল বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থার অধিকার রাখে। প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের কারণে অনেক শিক্ষার্থী চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ পরিস্থিতিকে ভারতের জন্য গভীর সংকট হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানান তিনি।