বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“প্রথম রোজাতেই জমে উঠল চকবাজারের ইফতার বাজার”

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার। দুপুর গড়াতেই ইফতারি কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে এই ঐতিহাসিক বাজারে। জোহরের নামাজের পর থেকেই দোকানিরা সার্কুলার রোডজুড়ে পসরা সাজিয়ে বসেন। বিকেলের দিকে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড় ও হাঁকডাক।

প্রায় চারশ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই বাজার রমজান এলেই বিশেষভাবে জমে ওঠে। সাধারণ ইফতারির বাইরে স্বাদ ও বৈচিত্র্যের কারণে চকবাজার বরাবরই আলাদা। ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজুর পাশাপাশি এখানে পাওয়া যায় প্রায় ১০০ ধরনের ইফতারি আইটেম।

দামে-স্বাদে বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো। চিকেন আচারি ১২০ টাকা, শাহী রুটি ৮০-১০০ টাকা, দই বড়া (৫ পিস) ২০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৮০ টাকা, তান্দুরি চিকেন ১০০ টাকা, শর্মা ৪০ টাকা, ডিম চপ ২০ টাকা, শাহী পরোটা ৬০-৮০ টাকা, কোয়েল পাখি ৯০ টাকা, সুতি কাবাব কেজি ১৬০০ টাকা এবং শাহী জিলাপি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যেই মিলছে ছোলা, মুড়ি, ঘুঘনি, নিমকি ও সমুচা।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় আইটেম ‘বড় বাপের পোলায় খায়’, যার দাম প্রতি কেজি ৮০০ টাকা। মাংস, কাবাব, ডিম, ঘি, বুটের ডাল, মাংসের কিমা ও নানা মসলায় তৈরি এই বিশেষ পদটির ডাক ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ে।

বিক্রেতা মোহাম্মদ বলেন, “ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এই খাবার কিনতে আসেন। গত বছরের মতো এবারও একই দামে বিক্রি করছি।” আরেক বিক্রেতা মোশাররফ জানান, “প্রথম দিনেই বাজার জমজমাট। আশা করছি পুরো রমজান মাসজুড়ে এমনই থাকবে।”

চকবাজারের বেশিরভাগ বিক্রেতাই বংশ পরম্পরায় ব্যবসা করে আসছেন। পাশাপাশি রমজানকেন্দ্রিক মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও যুক্ত হয়েছেন।

মগবাজার থেকে আসা ক্রেতা মো. শামীম বলেন, “প্রতি বছর প্রথম রোজায় এখান থেকেই ইফতার কিনি।” খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা তাহেরুলের মতে, “এখানকার বৈচিত্র্যময় ইফতারি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তবে খাবার খোলা রেখে বিক্রি না করলে ভালো হয়।”

রমজানের প্রথম দিনেই এমন জমজমাট চিত্র প্রমাণ করে, ঐতিহ্য ও স্বাদের টানে চকবাজার এখনো রাজধানীর রোজাদারদের অন্যতম আকর্ষণ।