আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ার পঞ্চম দিনে প্রথম ঘণ্টায় ৩৬টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই শুনানিতে ২৮টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে, ৫টি আপিল নামঞ্জুর হয়েছে। এছাড়া একটি আপিল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পেন্ডিং রাখা হয়েছে এবং ২টি আপিলের বাদি অনুপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথম বিরতি দেওয়া হয় বেলা সাড়ে ১১টায়।
শুনানিতে দেখা গেছে, কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে:
- রাজশাহী-১ আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল-সাআদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার জমা দেওয়া এক শতাংশ ভোটার তালিকা থেকে দৈবচয়নে ১০ জনের একজনকেও যাচাই করা যায়নি।
- মানিকগঞ্জ-১ আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তার এক শতাংশ ভোটার তালিকা থেকে ১০ জনের মধ্যে ৮ জন যাচাই করা যায়নি।
- সিরাজগঞ্জ-৬ আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবিরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তার ভোটার তালিকা থেকে দৈবচয়নে ১০ জনের একজনকেও যাচাই করা যায়নি।
- চট্টগ্রাম-১৩ আসন: গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন ঋণখেলাপির দায়ে বাতিল করা হয়েছে।
- কুমিল্লা-২ আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ারের আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া ও আপিল শুনানি খুবই সময়নিষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমস্ত প্রার্থীকে আইন অনুযায়ী সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আপিল শুনানির ফলাফল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের প্রতি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা দেখাচ্ছে, প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রমাণিত তথ্য ও ভোটার তালিকা যথাযথভাবে জমা দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে আপিল শুনানি এবং মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে এবং এর পরই প্রচারণা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হবে।