সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি একক ডিজিটাল আইডি এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিকম ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত “নতুন টেলিকম পলিসি: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা” শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকের পরিচয় ও আর্থিক লেনদেন একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে, যার ফলে সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হবে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি জানান।
রেহান আসিফ বলেন, দেশের টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবার বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাটতি থাকলেও এটি একই সঙ্গে বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র। তিনি স্বীকার করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড সেবা পিছিয়ে আছে, তবে এটি উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো নাগরিকদের মানসম্মত কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা, এরপর ব্যবসা ও অর্থনীতির বিকাশ এবং তৃতীয় ধাপে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি। এফডিআইকে জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
টেলিকম খাতকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সরকার ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে উন্নত সংযোগের আওতায় আনা যায়।
তিনি আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এটিকে হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি টেলিকম খাতের কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার কথাও চলছে, যাতে শিল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই হয়।
সভায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান, প্রযুক্তিবিদ এবং বিভিন্ন টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।