ভারতজুড়ে টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার করা না হলে মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে আবারও কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে।
সোমবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ‘সম্মানের খাতিরে’ দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছিল অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন সিজিপি।
তবে সিজিপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, সরকার তা মানেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দিল্লিতে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের আটক এবং বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের নজরদারি ও হয়রানির অভিযোগও ওঠেছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং নতুন করে কোনো মামলা না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যথায় সিজিপি আবারও রাজপথে নামবে।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহারের লিখিত চুক্তি মঙ্গলবারের মধ্যেই তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।
এর আগে কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের পর সিজিপি জানিয়েছিল, নিট পরীক্ষা জালিয়াতির ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই এসব মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে সিজিপি।