রাজধানীর বসিলা ঘাট থেকে নতুন চালু হওয়া বসিলা-সদরঘাট-শরীয়তপুর নৌপথে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। চালুর প্রথম দিনেই এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চ মাত্র চারজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে, যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৯টায় লঞ্চটি শরীয়তপুর ঈদগাহ ফেরিঘাটের উদ্দেশে বসিলা ঘাট ত্যাগ করে। তবে যাত্রী সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় শুরুতেই এই নৌরুটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লঞ্চটির দায়িত্বে থাকা হাসান আহমেদ জানান, খুব কম যাত্রী নিয়েই যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদরঘাট থেকে কিছু যাত্রী পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই রুট চালুর বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় সাধারণ মানুষ বিষয়টি জানতেই পারেনি।
তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ নিজেরাও দেরিতে বিষয়টি জেনেছেন, ফলে যাত্রীদের মধ্যে তথ্য পৌঁছানোর সুযোগ হয়নি। যথাযথ প্রচারণা থাকলে যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বলেন, বসিলা ঘাটটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার—মোহাম্মদপুর, সাভার, মিরপুর, গাবতলী ও আগারগাঁওয়ের যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। ঈদ উপলক্ষ্যে ভাড়াও সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে কম রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, আপাতত ঈদকে সামনে রেখে এই রুট চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি স্থায়ী হবে কি না, তা যাত্রী সাড়া পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে। যাত্রী বাড়াতে প্রচারণা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বসিলা ঘাটে যাত্রীদের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি। অনেকে শুধু লঞ্চ দেখতে বা নতুন রুট সম্পর্কে জানতে এসেছেন। স্থানীয়দের মতে, জনপ্রিয় কিছু রুট যেমন লালমোহন বা অন্যান্য ব্যস্ত ঘাটের লঞ্চ চালু করা হলে যাত্রী সংকট থাকত না।
সব মিলিয়ে, সম্ভাবনাময় এই নৌরুটটি শুরুতেই যাত্রী সংকটে পড়লেও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন—প্রচার-প্রচারণা বাড়ালে এবং যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে এই রুটে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে।