বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রচারণা শেষ, চট্টগ্রামে সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রশাসনের ‘রণপ্রস্তুতি’

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রামে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের নির্বাচনে জেলার কিছু বিশেষ ও দূরবর্তী কেন্দ্র—বিশেষ করে উড়িরচর, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীর পাহাড়ি এলাকা—আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর ইউনিট স্থাপন করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

ফলাফল পৌঁছানো পর্যন্ত মাঠ ছাড়বে না ফোর্স

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফোর্স ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ ছাড়বেন না—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সময়ও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি জানান, কোন ফোর্স ও কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন, তা আগেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।

সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় কো-অর্ডিনেশন সেল

নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কো-অর্ডিনেশন সেল রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সেলগুলোর কার্যক্রম জেলা পর্যায় থেকে অনলাইনের মাধ্যমে মনিটর করা হবে।

প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের অনেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন অ্যাপ ডেভেলপ করেছেন, যার মাধ্যমে কোন কেন্দ্রে কে কোথায় মুভ করছে—সে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা অতীতের সব গ্লানি দূর করতে চাই। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সব ফোর্স নিয়ে আমরা একই স্ট্রিমে, একই স্পিডে কাজ করছি।”

সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরায় নজরদারি

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনী একটি সুরক্ষা অ্যাপ ডেভেলপ করেছে। পুলিশ বাহিনীর রয়েছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছেও বডি-ওর্ন ক্যামেরা রয়েছে।

তার ভাষায়, “এবার কোনোভাবেই কোনো ‘ড্রামা’ করার সুযোগ নেই।”

মাঠে ১১৫ ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য

জেলা প্রশাসক জানান, মাঠে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করছেন। মোট প্রায় ১১৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন।

বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং অফিসারের অধীনে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, পাশাপাশি থাকছেন পুলিশের সদস্যরাও।

তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

গুজব রোধে বিশেষ কমিটি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা রোধে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্টরাও রয়েছেন। একটি অ্যাপের মাধ্যমে সন্দেহজনক লিংক সত্য না ভুয়া—তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

ফ্রি, ফেয়ার ও উৎসবমুখর নির্বাচন অঙ্গীকার

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা সবাই কমিটেড, আমরা ডিটারমাইন্ড। সরকারি কর্মচারী হিসেবে জাতিকে একটি ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”

প্রচারণা শেষ

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হয়। সে অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে।