বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“পুলিশ হবে জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক, কোনো স্বৈরশক্তির হাতিয়ার নয়”

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এ পুলিশ সপ্তাহ–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করেই পুলিশকে জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

রোববার (১০ মে) সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একই সময়ে চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঢাকায় পুলিশের সাহসী অবস্থান স্বাধীনতাকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি ঐতিহাসিক প্রশ্নও সামনে আনেন তিনি। তার ভাষায়, মার্চের উত্তাল সময়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা ঢাকায় আসার পরও কেন সব পুলিশ সদস্যকে একত্রে রাজারবাগে রাখা হয়েছিল, সেটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের এ বিষয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, পুলিশের দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং জনগণের মৌলিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা ও নিপীড়নের পর দেশের মানুষ এখন শান্তি, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ চাইলে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, দেশের জনগণ পুলিশের কাছ থেকে মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করে। জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশকে কাজ করতে হবে এবং আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে।