বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭ ‘অগ্নিসংযোগের রহস্য উন্মোচন’

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭ ‘অগ্নিসংযোগের রহস্য উন্মোচন’চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের রহস্য উদঘাটন’সহ ৭জন গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। এসময় অগ্নিসংযোগে ব্যবহৃত কিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর ২০২৫ চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় গভীর রাতে কিছু দুৰ্বৃত্তরা কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত করে। এতে কিছু বসতঘর আংশিক ক্ষৃতিগ্রস্থ এবং কিছু বসতঘর একেবারে ভস্মিভূত হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারগুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক বক্তব্য, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর লেখা পাওয়া যায়। রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে ব্যানার টানিয়ে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে প্রাথমিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে প্রতিয়মান হয়।
এই ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তথ্য-উপাত্ত, পরযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত (২ জানুয়ারি) দুপুরে আনুমানিক ১২.৩০ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জলার কলেজ গেট এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্ৰেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার বসতঘর তল্লাশি করে ৩টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ব্যানারের সাথে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।

গ্ৰেফতারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে রাঙ্গামাটির লোকমান, রাঙ্গামাটির পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও রাউজানের একজন ব্যক্তির পরিকল্পনায় ১৫/১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এর পরিকল্পনা করে| পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে ষড়যন্ত্ৰমূলক ব্যানার টানিয় রাখে।

তদন্তে আরও জানা যায়, এসব ঘটনার মাধ্যমে একদিকে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা এবং অপরদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতারকৃত আসামি মনিরের পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিশোধমূলক মনাভাব থেকে ব্যানারে কিছু ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বরও সংযুক্ত করা হয়।
আসামি মনির থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত আসামি ১.মনির হোাসেন ২. মোহাম্মদ ওমর ফারুক ৩. মোহাম্মদ কবির হোসেন ৪. কার্তিক দে ৫. বিপ্লব বড়ুয়া ৬. মোহাম্মদ লোকমান এবং ৭. মোঃ পারভেজ।

ঘটনাস্থল ও আসামীদের হেফাজত হতে উসকানিমূলক ব্যানার-৪টি, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত কেরোসিন তৈলের কন্টিনার-২টি যা কেরোসিন তৈল ক্রয়ের দোকানের কন্টেইনারের সাথে মিল পাওয়া যায়। কেরোসিন তৈলের বোতল-১টি সিএনজি ড্রাইভার এর বসতঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় যা পূর্বের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল। কেরোসিন তৈলমাখা লুংগি-১টি ও তৈলমাখা পুরাতন কালো শার্ট-১টি যা প্রথম ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়| খালি প্লাস্টিকের বস্তা-৩টি যা অভিযুক্ত মনিরের বাসা থেকে উদ্ধার যেগুলোর সাথে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত প্লাস্টিকের বস্তার সাথে মিল পাওয়া যায়| ব্যানারে উল্লেখিত মোবাইলে নাম্বারসমূহ সংরক্ষিত মোবাইল ফোন-১টি এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা-১টি ও মোটরসাইকেল-১টি যেগুলো ৫টি ঘটনাস্থলে গমনাগমনের জন্য ব্যবহৃত আলামতসমূহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা: মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘটনায় সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদানকারী একজনের নাম পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আহসান হাবিব পলাশ বলেন, অগ্নিসংযোগ ও উস্কানিমূলক ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা করা হলে খুব কঠোরভাবে দমন করা। তিনি আরো বলেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটানোকারি যেই’ই হোক আইনের আওতায় আনা হবে।