বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পুরুষের লুকানো শুক্রাণু শনাক্তে বিপ্লব আনছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নতুন একটি প্রযুক্তি এমন পুরুষদের ক্ষেত্রেও শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে, যাদের আগে বলা হয়েছিল তাদের কোনো শুক্রাণু নেই এবং তারা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম। এই উদ্ভাবন দীর্ঘদিন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করা দম্পতিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি “স্টার (STAR: Sperm Track and Recovery)” সিস্টেমটি মেশিন লার্নিং ও উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনার ভেতর লুকিয়ে থাকা বিরল শুক্রাণু শনাক্ত করতে পারে। এরপর রোবোটিক সিস্টেম সেই শুক্রাণু আলাদা করে সংরক্ষণ করে, যা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যায়।

গবেষকদের মতে, অ্যাজোস্পার্মিয়া নামের অবস্থায় অনেক পুরুষের বীর্যে শুক্রাণু থাকে না বলে মনে করা হলেও, কিছু ক্ষেত্রে খুব অল্প পরিমাণে শুক্রাণু থেকে যায়, যা সাধারণ মাইক্রোস্কোপে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এআই প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, স্টার সিস্টেম প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বেশি কার্যকরভাবে শুক্রাণু শনাক্ত করতে পারে। ইতোমধ্যে শতাধিক রোগী এই প্রযুক্তির জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রোগীর ক্ষেত্রে শুক্রাণু খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রযুক্তিটির মাধ্যমে প্রথম সফল “স্টার বেবি” জন্ম নেয় গত বছর, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। একই সঙ্গে গোপনীয়তা, নৈতিকতা ও চিকিৎসা তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এখন শুধু শুক্রাণু শনাক্তেই নয়, বরং ডিম্বাণু নির্বাচন ও আইভিএফ চিকিৎসা আরও উন্নত করতেও ভূমিকা রাখছে, যা ভবিষ্যতের প্রজনন চিকিৎসাকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করতে পারে।