বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত ও হয়রানি বন্ধের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

 পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। সংগঠনটি জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্র থেকে দূরত্ব, ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে–পরের যোগাযোগ নিষিদ্ধ থাকায় অনেক আদিবাসী ভোট দিতে পারছেন না। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি ও হয়রানি তাদের ভোটপ্রয়োগে নিরুৎসাহিত করছে।

সংগঠনটি নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি মূল দাবি তুলেছে:

  1. দূরবর্তী পাহাড়ি ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্রের আশপাশে আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা।

  2. পাহাড় ও সমতলের সব ভোটারদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে জাকির হোসেন বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা প্রায়শই বাদ পড়েন। কাপ্তাই হ্রদের আশেপাশের জনগোষ্ঠীর একমাত্র যাতায়াত নৌযান হওয়ায় তারা প্রায়শই ভোট দিতে পারেন না।” তিনি নির্বাচন কমিশনের নিয়মগুলো শিথিল করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পেরিয়েও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন।

সংগঠনটি আগামী নির্বাচনের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে চুক্তির সময়সূচি ভিত্তিক বাস্তবায়ন, পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্বের অবসান, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদগুলোর গণতান্ত্রিকীকরণ, ভূমি বিরোধ সমাধান ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ, আদিবাসীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় সরকারের বিশেষ আসন সংরক্ষণ।

সংগঠনটি বলেছে, এসব পদক্ষেপ না নিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রান্তিকতা ও ভোটাধিকার সমস্যা চলতেই থাকবে।