বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“পাম্পে পুলিশের সঙ্গে সেনা মোতায়েন চাইছেন মালিকরা, ৮ দফা দাবিতে অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান”

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

মালিবাগ, ঢাকা – দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্য মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার (১১ মার্চ) মালিবাগের স্কাই সিটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক ৮ দফা দাবিসহ এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবেলার পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ সরকার তেলের রেশনিং বা সীমিত সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছু অসঙ্গতি এবং ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় পাম্পগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

৮ দফা মূল দাবি:

  1. মোটরসাইকেলের তেল সরবরাহে কোনো বিভাজন হবে না; ছোট-বড় সব ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
  2. বিপণন কোম্পানি থেকে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে।
  3. এজেন্সি, প্যাক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটর বরাবর তেল সরবরাহ চালু রাখতে হবে।
  4. মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সামাজিক হয়রানি বা ‘সোশ্যাল পানিশমেন্ট’ বন্ধ করতে হবে।
  5. অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
  6. তেলের ডিপোতে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
  7. যদি পাম্প মালিক তেলের অনিয়ম করে বা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে, তাহলে জেল-জরিমানা বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  8. সরকারের সরবরাহকৃত তেলের বিপণন ও মজুত পর্যবেক্ষণ কোম্পানি ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে যথাযথভাবে করতে হবে, মোবাইল কোর্টের প্রয়োজন নেই।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট:

রাজধানীসহ সারা দেশে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ‘তেল ফুরিয়ে যাবে’ এমন আতঙ্কে ভোগছেন। অন্যদিকে সরকার বারবার ঘোষণা করছেন, দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। এই ধরনের দ্ব্যর্থপূর্ণ তথ্য এবং সামাজিক মাধ্যমে গুজবের কারণে ‘প্যানিক বায়িং’ বা হঠাৎ অতিরিক্ত কেনাকাটা হচ্ছে, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করছে।

সভাপতির মন্তব্য:

নাজমুল হক আরও বলেন, পাম্পগুলো সরকার থেকে সরবরাহ গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। যদি তেলের সরবরাহে অনিয়ম বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, তবে পাম্প মালিকরা ভোক্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের মুখোমুখি হবেন এবং বিপণন ব্যবস্থা সচল রাখা অসম্ভব হবে। এছাড়া, মোটরবাইকের জন্য সরকার ঘোষিত নতুন শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা জটিল এবং লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতাদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এবং নিরাপদ ও সুষ্ঠু জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।