দেশে জ্বালানি তেলের সংকট কাটাতে সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও বাস্তব চিত্রে তেমন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। রাজধানী ঢাকা-র বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ অপ্রতুল, কোথাও পুরোপুরি বন্ধ, আবার কোথাও সীমিত আকারে বিক্রি চলছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকেই তেল নিতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরছেন, যা ভোক্তাদের মধ্যে বাড়তি হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করছে।
সরবরাহে এই অস্বাভাবিকতা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তা মিলিয়ে এক ধরনের অঘোষিত সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকারি পর্যায়ে সংকট অস্বীকার করা হচ্ছে, তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় খোলা বাজারে এখনও বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। ফলে যারা জরুরি প্রয়োজনে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত অর্থ গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে—সরবরাহ সীমিত থাকায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফুয়েল কার্ড বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা নিয়ে চালকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত না করলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। একই সঙ্গে কালোবাজারি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায় এই অঘোষিত সংকট শিগগিরই বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে।