বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধারে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পাচার করা সম্পদ দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করতে আরও জোরালো ও কার্যকর বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। অবৈধ আর্থিক প্রবাহ রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর আর্থিক সততা বিষয়ক বিশেষ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ কথা বলেন।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান জনজীবনে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি মানুষের মনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। জনগণ এখন রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত আচরণ দেখতে চায়।

রাষ্ট্রদূত চৌধুরী তথাকথিত ‘মেগা প্রকল্পগুলো’র সমালোচনা করে বলেন, এসব প্রকল্প সাধারণ মানুষের জন্য খুব সীমিত সুফল বয়ে আনে। বরং এগুলো দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে এবং জনসাধারণের অর্থ বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে পাচারের পথ খুলে দেয়।

পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার করে বৈধ মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট তথ্যের যথাযথ আদান-প্রদান নিশ্চিত করা, কার্যকর আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

গত বছরের জুনে স্পেনে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন অর্থায়ন বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফলকে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, এই রাজনৈতিক অগ্রগতিকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে করে পুনরুদ্ধারকৃত অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।