বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“পাঁচ দিনের উচ্ছেদ অভিযান শেষে আবারও ফুটপাতে হকারদের দখল”

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬ – রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের পাঁচ দিনের উচ্ছেদ অভিযানের পরও ফুটপাতের হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীরা আবারও পূর্বনির্ধারিত জায়গায় বসে পড়েছেন।

পুলিশের অভিযান চলাকালীন মালামাল জব্দ, অর্থদণ্ড ও গ্রেপ্তার সত্ত্বেও হকাররা আবারও ফুটপাতে দোকান খোলার চেষ্টা করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, পেটের দায়ে অথবা জায়গা হারানোর ভয় দেখেই তারা ঝুঁকি নিয়ে আবার বসেছেন।

হকারদের দাবী ও অভিযোগ:

  • ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদ অভিযানকে প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
  • পুলিশ দিয়ে উচ্ছেদ করিয়ে তারা নিজেরা পছন্দের মানুষদের দোকান বসাতে চাচ্ছেন।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া:
ডিএমপি জানায়, ফুটপাত দখল দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তাই উচ্ছেদ করেও সব হকার সরানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রশাসন কোনোভাবেই ফুটপাতের ভাসমান ব্যবসায়ীদের স্থায়ীভাবে বসতে দিতে চাচ্ছে না। পুনর্বাসনের জন্য ‘হলিডে এবং নাইট মার্কেট’ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

পাঠকের চোখে দৃশ্য:

  • গুলিস্তান, পল্টন, দৈনিক বাংলা ও মতিঝিলের ফুটপাতগুলোতে হকাররা আবার বসেছে।
  • কিছু ব্যবসায়ী মালামাল বিছানা বা চাদর দিয়ে সাজিয়ে বসছেন, যাতে অভিযান হলে দ্রুত সরানো যায়।
  • গুলিস্তানের ফুটপাত ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের সরিয়ে অন্যদের বসাতে চাচ্ছে।
  • রোকুনুজ্জাম নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের পর বেচাকেনা কম ছিল, উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে দোকান বন্ধ রাখতে হয়। পরিবার ও জীবিকার তাগিদে এখন পুনরায় দোকান খোলা হচ্ছে।

পথচারীদের মতামত:

  • মোহাইমিনুল নামের একজন বলেন, দেশের উচ্ছেদ অভিযানগুলো সাধারণত লোক দেখানো হয়। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অভাবে হকাররা আবারও ফুটপাত দখল করতে পারে।

অতিরিক্ত ঘটনা:

  • পাঁচ দিনের অভিযানের সময় কিছু এলাকায় দোকান ভেঙে দেওয়া হলেও বায়তুল মোকাররমের গোল্ড মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকানগুলোতে হাত দেওয়া হয়নি।
  • ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ী গ্রুপের অফিসের সামনে মানবন্ধন ও আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতি ফুটপাতে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জন্য এটি পুনর্বার গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।