বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পহেলা বৈশাখে ‘শালীন ও শিরকমুক্ত’ শোভাযাত্রার আহ্বান হেফাজতের

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

আসন্ন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখে শালীনতা বজায় রেখে এবং ‘শিরকমুক্ত’ পরিবেশে সাংস্কৃতিক র‌্যালি আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ‘মঙ্গল’ বা ‘আনন্দ’ শব্দ ব্যবহার বাদ দিয়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি ইতিবাচক হলেও এ আয়োজন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে কতটা মুক্ত থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই তিনি শালীনতা ও তাওহিদের চেতনা বজায় রেখে র‌্যালি আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে তাওহিদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—এমন আনন্দ ও সাংস্কৃতিক চর্চায় কোনো আপত্তি নেই। তবে ‘মঙ্গল’ ধারণার মতো বিষয়কে শিরক হিসেবে উল্লেখ করে তা পরিহারের আহ্বান জানানো হয়। তার মতে, সব কল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে এবং একজন মুসলমানের জন্য এ বিশ্বাস অটুট রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বৈশাখী আয়োজনের ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা যেতে পারে। তবে কোনো প্রাণীর মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরি ও প্রদর্শন ইসলামসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে বাংলা সনের ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, বঙ্গাব্দের প্রবর্তন হিজরি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সম্পর্কিত। মুসলিম শাসনামলে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের বক্তব্যের সমালোচনা করে হেফাজত নেতা বলেন, ‘সার্বজনীনতার’ নামে ভিন্নধর্মী সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

সবশেষে, তিনি পহেলা বৈশাখ উদযাপনে আগ্রহীদের প্রতি আহ্বান জানান—তারা যেন শালীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।